সোনারগাঁও প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ফয়জুল মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে নির্যাতন চালিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্ররে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহত ফয়জুল মিয়া উপজেলার কাঁচপুর বেহাকৈর এলাকার ফোছন আলীর ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফয়জুল মিয়াকে মাদকাসক্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য তার পরিবার সম্প্রতি হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার এভারগ্রীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে। ঈদুল আজহার পরদিনও তার স্ত্রী মাসুদা বেগম কেন্দ্রে গিয়ে তাকে খাবার দিয়ে এসেছিলেন। গতকাল রাতে হঠাৎ নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাদের খবর দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে ফয়জুল মিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের স্ত্রী মাসুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে সুস্থ করার জন্য ওখানে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের অমানুষিক নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা আমার স্বামীকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার আজ সকালে বলেন, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাময় কেন্দ্রে অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। লাশের শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
ওসি আরও জানান, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।