আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৪ সালে করা তিনটি বড় ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে দুটিই হুবহু মিলে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন চীনা বংশোদ্ভূত কানাডীয় অধ্যাপক শুইচিন জিয়াং। ইন্টারনেটে তাকে এখন ‘চীনের নস্ট্রাডামাস’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। তার সর্বশেষ এবং তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণীটি নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে নানা সমীকরণ; যেখানে তিনি দাবি করেছেন চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের শেষ পরিণাম হবে পশ্চিমাপক্ষ ও ইসরায়েলের পরাজয়।
সম্প্রতি এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্যটি সামনে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধ্যাপক জিয়াং ২০২৪ সালের শুরুর দিকে একটি অনলাইন লেকচারের মাধ্যমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
যে দুই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছে
১. ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন: যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার বিষয়টি তিনি আগেই নিখুঁতভাবে অনুমান করেছিলেন।
২. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার বিষয়েও তার অনুমান বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে আলোচিত ভবিষ্যদ্বাণী
অধ্যাপক শুইচিন জিয়াংয়ের তৃতীয় ও চূড়ান্ত ভবিষ্যদ্বাণীটি হলো—চলমান যুদ্ধে ইরান জয়লাভ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরাজিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তার সেই ভিডিও লেকচারটিতে তিনি এই সামরিক ও রাজনৈতিক পতনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের কৌশলগত অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শক্তিশালী প্রক্সি নেটওয়ার্কের কারণে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অধ্যাপক জিয়াংয়ের এই মন্তব্যগুলো কতটুকু সত্য হবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে তার আগের দুটি ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মাঝে বিষয়টি বেশ কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।