বিশেষ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরসহ সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জের আবাসিক এলাকাগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গ্যাস-সংকট চলছে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ থাকার উপক্রম হয়েছে। ফলে হাজার হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাসের চাপ এতই কম যে সকালে চুলা জ্বালানোই যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনের খাদ্য প্রস্তুত করা, বিশেষ করে চাকরিজীবী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের সময়মতো নাস্তা ও দুপুরের খাবার দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই হোটেল থেকে খাবার কিনে কিংবা বিকল্প পদ্ধতিতে সিলিন্ডার ব্যবহার করে কাজ সারছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শিল্পী আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, সকালে উঠে চুলা ধরাতে গেলে ফোঁস ফোঁস শব্দ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। বাচ্চাকে স্কুলে পাঠানোর আগে এক কাপ চাও বানিয়ে দেওয়া যায় না। দুপুরের দিকে অল্প চাপ এলেও তা দিয়ে রান্না শেষ করতে বিকেল হয়ে যায়।
সোনারগাঁয়ের একাধিক গৃহিণী জানান, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়া অন্যায়। এ সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান তারা।
গ্যাস সরবরাহের এই অচলাবস্থা নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় এবং মূল লাইনে সিস্টেম প্রেসার (চাপ) কম থাকার কারণে এই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তবে তিতাস কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জবাসী। দ্রুততম সময়ে পূর্ণ চাপে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ বাসিন্দারা।