মুহাম্মদ আল আমিন (এমএ): উপমহাদেশের বিশিষ্ট আলেম, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং জামিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ও বোর্ড অব গভর্নরসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঐতিহাসিক বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে এই ভাবগম্ভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মুফতি মহিবুল্লাহিল বাকী, মহাপরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মুফতি শরীফ উল্লাহ, বোর্ড অব গভর্নরস (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), প্রিন্সিপাল, নূরে মদীনা আল-আরাবিয়া মাদরাসা ও মহাসচিব, সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদসহ ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন।
উপমহাদেশীয় আলেমদের ঐতিহ্য ও কওমি চেতনাবৈঠকে দ্বীন প্রচার, ইসলামী শিক্ষার প্রসার এবং উপমহাদেশে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.)-এর চিন্তাধারা এবং ঐতিহাসিক দেওবন্দি ভাবধারার বৈশ্বিক গুরুত্ব ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাদর্শন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এবং উপস্থিত আলেম সমাজ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, দেওবন্দ জামায়াত ইসলামী উম্মাহর মাঝে এক সুস্থ, মার্জিত ও ভারসাম্যপূর্ণ মনমানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক মেলবন্ধন বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
আলোচনায় পবিত্র কোরআনের আলোকেই কওম শব্দের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সামাজিক তাৎপর্য অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, কোরআন মাজীদে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কওম শব্দটি বারবার এসেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতবর্ষের সকল মুসলিম ও অন্যান্য সম্প্রদায় একটি সুদৃঢ় সামাজিক ও মানবিক কওমি ঐতিহ্যের অংশীদার।

সফররত মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন মহাপরিচালক মুফতি মহিবুল্লাহিল বাকী এবং গভর্নর মুফতি শরীফ উল্লাহর প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দ্বীনি খিদমতের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের গতিশীল ও যোগ্য নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেবল প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে না, বরং বাংলাদেশের পুরো আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে দ্বীনের সঠিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এই নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের আলেম সমাজের মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দ্বীনি যোগাযোগ ও শিক্ষাগত সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে উভয় দেশের প্রতিনিধিরাই দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেন।

সফররত অতিথি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর হাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা গ্রন্থ ও ঐতিহাসিক কিতাব উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ঐতিহাসিক ইসলামী বিশ্বকোষ এর কপি সৌজন্য স্মারক হিসেবে অতিথির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মহিবুল্লাহিল বাকী এবং গভর্নর মুফতি শরীফ উল্লাহ।