মুহাম্মদ আল আমিন (এমএ): পবিত্র হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এই পবিত্র সফরে প্রতিটি আমল সঠিক নিয়মে সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। তাই হজে যাওয়ার আগে এর ফরজ, ওয়াজিব ও প্রয়োজনীয় বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, হজের কিছু আমল ফরজ এবং কিছু ওয়াজিব। ফরজ আমল হজের মূল ভিত্তি। এগুলোর কোনো একটি যথাযথভাবে আদায় না হলে হজ সহিহ বা কবুল হয় না। অন্যদিকে ওয়াজিব আমলের কোনোটি ভুলবশত বা ওজরে ছুটে গেলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী 'দম' (পশু কোরবানি) বা নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।
হজের মূল ভিত্তি ৩ ফরজ
হজের ফরজ তিনটি। এগুলো যথাযথভাবে আদায় করা প্রত্যেক হাজির জন্য অপরিহার্য। এর যেকোনো একটি বাদ পড়লে হজ বাতিল হয়ে যায়।
১. ইহরাম গ্রহণ ও নিয়ত: হজের নির্দিষ্ট নিয়তে ইহরাম গ্রহণ ও তালবিয়া পাঠ করা।
২. আরাফাতের ময়দানে অবস্থান: ৯ জিলহজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ।
৩. তাওয়াফে জিয়ারত: ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করা।
হজের গুরুত্বপূর্ণ ৭ ওয়াজিব
কোনো ওয়াজিব ভুলবশত বা ওজরে ছুটে গেলে ‘দম’ বা কোরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তবে হজ বাতিল হয় না।
১. মুজদালিফায় অবস্থান: ৯ জিলহজ রাতে আরাফাত থেকে ফিরে মুজদালিফায় অবস্থান করা ও রাত যাপন।
২. সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাতবার সাঈ করা।
৩. মিনায় জামারাতে কংকর নিক্ষেপ: ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় শয়তানের স্তম্ভে পাথর বা কংকর নিক্ষেপ করা।
৪. কোরবানি করা: তামাত্তু ও কিরান হজ পালনকারীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মে কোরবানি করা।
৫. মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা: কোরবানির পর মাথা মুণ্ডানো অথবা চুল ছোট করার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া।
৬. বিদায়ী তাওয়াফ: মক্কার বাইরের হাজিদের জন্য নিজ দেশে ফেরার আগে বিদায়ী তাওয়াফ করা।
৭. ধারাবাহিকতা রক্ষা করা: কংকর নিক্ষেপ, কোরবানি ও চুল কাটার কাজগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে এবং হারামের সীমানার ভেতরে সম্পন্ন করা।
হজে ভুল এড়াতে আগেই প্রস্তুতি জরুরি:
হজ পালনের আগে অভিজ্ঞ আলেম বা নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষকের কাছ থেকে ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈসহ সব বিধানের মাসআলা-মাসায়েল ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। সামান্য অসচেতনতার কারণে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আমল বাদ পড়ে গেলে পরে জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই জ্ঞান ও সতর্কতার সঙ্গে হজের প্রতিটি আমল সম্পন্ন করাই কবুল হজের অন্যতম পূর্বশর্ত।