বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা, সরকারকে সময় দিন-ধর্মমন্ত্রী
মুহাম্মদ আল আমিন )এমএ) : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত।
শনিবার আসরের নামাজের পর মসজিদের পূর্ব চত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মহিববুল্লাহীল বাকি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং পরে মোনাজাত । ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মেলা উদ্বোধনকালে ধর্মমন্ত্রী বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ১৮ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে খাত দুটিকে পুনর্গঠন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
জনসাধারণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী একটি রূপকের মাধ্যমে বলেন, একটি নবজাতক শিশু জন্মিয়েই 'আব্বা' ডাকতে পারে না। তাকে সময় দিতে হয়, লালন-পালন করে বড় করতে হয়, তখন সে নিজেই 'আব্বা' বলে ডাকে। ঠিক একইভাবে, বর্তমান সরকারকেও কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করলে এবং সরকারকে সময় ও সহযোগিতা দিলে বিদ্যমান সব সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, বিগত ১৮ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার ও ‘আওয়ামী লীগীকরণ’ করা হয়েছিল। অতীতের সেই মুজিববাদী প্রভাব থেকে মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে পবিত্র কোরআন ও হাদিস চর্চার প্রকৃত কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সব ধরনের অন্যায় ও স্বজনপ্রীতি চিরতরে দূর করা হবে। কোনো হালাল বা বৈধ কাজের জন্য যেন কাউকেই এক পয়সাও ঘুষ দিতে না হয়, সেই নীতিতেই প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন করা হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এবারের বইমেলা চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকেই দর্শনার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন।
মেলা বাস্তবায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মোট ২০৬টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মেলায় ১৪৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি প্রকাশকদের পাশাপাশি মিশর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে ৭টি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।
মেলায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইসলামী দর্শন, ইতিহাস, ধর্মীয় সাহিত্য ও গবেষণাধর্মী বইয়ের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য নৈতিক শিক্ষামূলক নানা গ্রন্থ প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
মাসব্যাপী এই আয়োজনে শুধু বই কেনাবেচাই নয়, প্রতিদিন লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে ইসলামী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা সভা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মেলায় পৃথক শিশু চত্বর নারীদের জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থা, তথ্যকেন্দ্র এবং সাংবাদিকদের জন্য ‘মিডিয়া কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে এই মেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকেরা।