মুহাম্মদ আল আমিন (এমএ): লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক হৃদয়ভরা এই ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কার প্রান্তর। আজ সোমবার সকাল থেকেই তাঁবুর শহর মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হজের পাঁচ দিনের মূল কার্যক্রম। মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরাম বেঁধে, আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এখন তাঁবুর শহর মিনায়। আজ ৮ জিলহজ সোমবার মিনায় অবস্থান করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ২০ লাখ আল্লাহপ্রেমী মুসলমান। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সাড়ে ৭৮ হাজার হাজির মিনায় গমন নিশ্চিতে কাজ করছে বাংলাদেশ হজ মিশন।
হজের নিয়ম অনুযায়ী, মিনায় আজ রাত্রিযাপন শেষে আগামীকাল ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার, ২৬ মে) ভোররাতে হাজিরা রওনা হবেন ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান রুকন বা ফরজ। এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের মূল খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েক আলি বিন আবদুর রহমান আল-হুযাইফি। খুতবা শেষে হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন।
এরপর সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন এবং জামারায় (শয়তানকে) নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।
পরদিন ১০ জিলহজ (বুধবার, ২৭ মে) সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন হাজিরা। সেখানে বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করে ইহরাম ভঙ্গ করবেন। এরপর মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ (তাওয়াফে জিয়ারত) ও সাঈ সম্পন্ন করবেন।
সবশেষে ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে পর্যায়ক্রমে তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের পাঁচ দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আসা বিপুল সংখ্যক হাজির নিরাপত্তা, যাতায়াত ও নির্বিঘ্নে ইবাদত সম্পন্ন করার জন্য সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাপক ও নিশ্ছিদ্র প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।