আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা এখন সরাসরি সামরিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় গত রোববার রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় মার্কিন বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী একযোগে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো তারা এই অভিযানে ফাইটার বিমান ও যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন ও সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ড্রোনবহরের একটি বড় অংশ এই হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরান যদি এভাবে পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তা প্রতিহত করতে গিয়ে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে মারাত্মক টান পড়তে পারে। ১০ জুলাই এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি মার্কিন স্বার্থে আঘাতের চেষ্টা করে তবে তাদের 'পুরোপুরি ধ্বংস' করে দেওয়া হবে।
চলতি বছরের শুরুতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। মাঝখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সেই চুক্তি ভেস্তে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করার পর থেকেই মূলত এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের মূল রুট 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।