আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্মেলনে দুজনের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে সময় ও সুযোগ মিললে তাদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে।
রোববার রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া বক্তব্যে ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, পুতিন ও ট্রাম্প—দুজনই চীনে অনুষ্ঠেয় এপেক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের জন্য বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করবে মস্কো। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।
উশাকভ বলেন, এপেক সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে সুযোগ তৈরি হলে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। তবে বৈঠকটি হলে সেখানে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা নির্ভর করবে বৈঠকের জন্য নির্ধারিত সময় ও পরিস্থিতির ওপর।
এদিকে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সম্ভাব্য একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানিয়েছেন, এমন একটি বৈঠকের ধারণা রয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়নি।
তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াবকভ বলেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণাটি ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এটি এখনো প্রস্তুতি পর্যায়ে পৌঁছেছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না।
তার মতে, এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা এবং বৈঠক থেকে কী ধরনের ফলাফল প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা। শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিতে পারে।
রিয়াবকভ এ প্রসঙ্গে রাশিয়া, ভারত ও চীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের কাঠামোর উদাহরণ দেন। তবে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, কোনো সম্ভাবনাই পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাস্তব পরিস্থিতির দিক থেকে এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই।
এদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি জানান, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশের প্রতিফলন।
রুশ সংবাদমাধ্যম ভেস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেসকভ বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি পথ তৈরি হয়েছে এবং সেখানে আস্থার মাত্রা বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা এক পক্ষ থেকে অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে এ ধরনের দীর্ঘ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়ে থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও এসেছে নতুন প্রস্তাব। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে রুশ শহরগুলোতে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রস্তুত কিয়েভ।
এমন পরিস্থিতিতে চীনে অনুষ্ঠেয় এপেক সম্মেলনকে ঘিরে ট্রাম্প ও পুতিনের সম্ভাব্য বৈঠক এবং রাশিয়া-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এ ধরনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।