দিল্লি প্রতিনিধি: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি বহুতল ছাত্রাবাস (পেইং গেস্ট) ধসে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচে। রোববার সন্ধ্যায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এআইআইএমএস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে এই সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধসে পড়া ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ চলছে একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতার আদলে।
এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জন শিক্ষার্থীকে, যাঁদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।
আজ বেলা ১টা ৩৪ মিনিটের দিকে নয়াদিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাস থানায় প্রথম ভবনধসের খবর আসে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবনটি ছেলেদের জন্য পেইং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বার্তা সংস্থা এএনআইকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পাঁচতলা ওই ভবনটির নাম ছিল "হোস্টেল ডেজ", যা মূলত ছেলেদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যদিও প্রাথমিক খবরে ভবনটিকে ছয়তলা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ওই প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, পাশের একটি ভবনও ধসে পড়ে এই ঘটনায়। কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। ভবনে ঠিক কতজন ছিলেন, তা নিবন্ধনের নথি যাচাইয়ের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি), সিটিএস এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা।
এদিকে ভবনধসের ঘটনার প্রতিবাদে আজ সন্ধ্যায় বিক্ষোভে নামেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মীরা। বিক্ষোভ চলাকালে তাঁরা সিভিক সেন্টারে অবস্থিত দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান এবং এমসিডি কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ধারণা, ভবনটি ধসে পড়ার সময় ছাত্রাবাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ কক্ষেই অবস্থান করছিলেন।