আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে অচল করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলে চালানো এই অভিযানের জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ছয় মাসে গড়ানো মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থানে উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে দুবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন জাহাজগুলো সফলভাবে সেই হামলা প্রতিরোধ করে।
এর জবাবেই ওমান উপসাগরে থাকা এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এম/টি দেরিয়া নামের পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। সেন্টকম দাবি করেছে, আঘাত হানার আগেই জাহাজের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে ট্যাংকারগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপ ও জাস্ক বন্দরের কাছে ট্যাংকারে হামলার খবরটি নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই খার্গ দ্বীপের মাধ্যমেই রপ্তানি হতো।
ট্যাংকারে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানের ‘আল-আজরাক’ মার্কিন ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংসসহ মার্কিন রণতরী ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩-এর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিকেই আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মঙ্গলবার এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.৪৬ ডলারে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা ও মার্কিন নৌ-অবরোধের মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইন বন্দরে থাকা সব তেলবাহী জাহাজ খালি করার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, “ইরান যতবার মার্কিন জাহাজে আঘাত হানার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের একটি করে তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে।