আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৯০০ জনের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।
নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে ৫৯০ জন পর্যটক। তাদের মধ্যে ৪৭৬ জন বিদেশি এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৩৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্স নেপালের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন।
বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি ধসে নদীতে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি হয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
প্রবল স্রোত নদী উপত্যকা দিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে। ভুটে কোশি ও ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে এই বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকম্পকে দায়ী করা হলেও পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, ভূমিকম্পের পরিবর্তে ভূমিধস থেকেই ভূকম্পনজনিত শক্তির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহের বড় একটি অংশ ধসে পড়ার সঙ্গে এই দুর্যোগের যোগসূত্র রয়েছে।

নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
এ ছাড়া কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাগরিকদেরও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, দেশটির অন্তত ৩৪ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশ তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় যাওয়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। অন্যরা নেপালের পার্বত্য এলাকায় ট্রেকিং ও ভ্রমণে গিয়েছিলেন।
নেপালের পাশাপাশি চীনের নিয়ন্ত্রিত তিব্বতেও এই দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

বন্যার পানিতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থলবন্দর ও আশপাশের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া নদীর সংযোগস্থলের কাছে পানি আটকে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ বা জলাধার থেকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, প্রতিকূল আবহাওয়া, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।