আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই গণহত্যামূলক আগ্রাসনে এখন মৃত স্বজনদের দাফন করার মতো এতটুকু জায়গা খুঁজে পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন গাজাবাসী। অনেক কবরস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ায় এক মানবেতর পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, স্বাভাবিক কবরস্থান না থাকায় বহু ফিলিস্তিনিকে এখন বসতবাড়ির বাগানে, তাঁবুর ভেতরে, শরণার্থী শিবিরে, এমনকি স্কুল ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দাফন করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ৪০টিরও বেশি কবরস্থান ইসরায়েলি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
পাশাপাশি যেসব এলাকায় এখনও দখলদার বাহিনী অবস্থান করছে, সেখানে অবশিষ্ট কবরস্থানগুলোতে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে রাখা হয়েছে। ফলে দাফনের জন্য উপযুক্ত জায়গার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তার ওপর যোগ হয়েছে দাফনের সরঞ্জামের তীব্র অভাব বর্তমানে একেকটি মরদেহ দাফন করতে ২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে, যা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য এক বিশাল বোঝা।
দাফনের জায়গার তীব্র সংকটের মধ্যেই গাজায় নতুন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। মধ্য গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে রোববারের এক হামলায় অন্তত ১ জন নিহত ও ২ জন আহত হন। সালাহ আল-দিন সড়কের কাছে বার্তা সংস্থা ওয়াফা ও আল জাজিরা এই আক্রমণের খবর নিশ্চিত করেছে।
এর আগের দিন দেইর এল-বালাহ শহরে আল-হাসানাত পরিবারকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও ১ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
অন্যদিকে গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সশস্ত্র বাহিনী। বেথলেহাম, কালকিলা ও রামাল্লা অঞ্চল থেকে এক শিশুসহ অন্তত ১৩ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা ওই অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গাছপালা কেটে ফেলা, শস্য নষ্ট করা এবং সেচের পাইপ ধ্বংসের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সহিংসতা থামানোর পরিবর্তে উল্টো নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের ওপরই গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বাড়াচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।