কুমিল্লা প্রতিনিধি: পবিত্র ওমরা পালনের স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মাদরাসাশিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর। কিন্তু মক্কায় পৌঁছানোর আগেই রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তাঁর স্বজনরা। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে পরিবারটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায়।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তাঁর ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন।
তিনি জানান, গত শনিবার ৪৫ সদস্যের একটি কাফেলার সঙ্গে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন নাসরুল্লাহ। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের দুই ঘণ্টার যাত্রাবিরতি ছিল। সেখান থেকে মক্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতিকালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নাসরুল্লাহসহ ১২ জন নিহত হন বলে তিনি জানান।
নাসিরুদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, কাফেলার অন্য সদস্যদের মধ্যে ৩২ জন সুস্থ রয়েছেন এবং ১৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মাওলানা নাসরুল্লাহ বদর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তাঁর দুই ছেলে জামিল (৭) ও জাওয়াদ (২) এবং মেয়ে নাবিলা (৫)।
পরিবারের স্বজনরা জানান, নাসরুল্লাহ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী ও ছোট তিন সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। যে মানুষটি পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন, তাঁর অনুপস্থিতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
নাসরুল্লাহর ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, ছোট তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে পরিবারটি এখন অসহায় অবস্থায় রয়েছে। স্বজনরা তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় আছেন। দ্রুত মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
এদিকে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি নাসরুল্লাহর মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
পবিত্র ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা নাসরুল্লাহর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা—প্রিয় মানুষটির মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাঁরা শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে পারেন।