নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যুর পর মাইদুল ইসলামও (২৮) মারা গেছেন । গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের প্রাণ গেল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাইদুলের শ্বাসনালিসহ শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
স্বজনরা বলছেন, এই পরিবারটির আর কেউ রইল না। মাত্র চার দিনের মধ্যে সবাই চলে গেছে। মাইদুল নাটোর জেলার বাসিন্দা। তিনি বন্দরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরিবারটি প্রায় এক বছর ধরে এখানে বসবাস করছিল।
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বন্দরের কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকার সেলিম মিয়ার টিনশেড বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও তাদের সন্তান মারুফ দগ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। তখন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, আগুনে শিশু মারুফের শরীরের ৯০ শতাংশ, মাইদুলের ৮৫ শতাংশ এবং বিউটির ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতর গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে। জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হতে পারেনি। ভোরে মাইদুল সিগারেট ধরানোর সময় আগুনের সংস্পর্শে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।
মাইদুলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের আর কেউ জীবিত নেই।