নিজেস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সফরে যেতে পারেন। সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর। সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিনের সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে সফরের তারিখ ও বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি এবং দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতির ওপর সফরের সময় নির্ভর করবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত থেকে তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে ওই সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সম্ভাব্য ভারত সফরটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, নতুন সরকারের সময় তা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তারেক রহমান।
তবে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ কিছু সংবেদনশীল বিষয় এখনো রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ অন্যতম। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য তারেক-মোদি বৈঠকে এসব বিষয় সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পানি বণ্টনের মতো বিষয় দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে আগামী সপ্তাহে ভারত সফরের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সফরটি শেষ পর্যন্ত হলে, এটি দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে