নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল (৪০) নামের এক রাজনৈতিক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় সিকদার মালেক সাহেবের বাড়ির সামনের পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ি এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলার তিনি ছিলেন প্রধান বাদী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালেহনগর এলাকার সড়কে বুলবুলকে একা পেয়ে শেখ সিফাতের অনুসারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এলোপাতাড়ি কোপানোর পর হামলাকারীরা পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট দায়ের হওয়া বৈষম্যবিরোধী মামলার (মামলা নম্বর-১৪) প্রধান বাদী ছিলেন বুলবুল। ওই মামলায় শেখ সিফাত ৬ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়া এবং পুরোনো শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁদের ভাষ্যমতে, শেখ সিফাতের নেতৃত্বাধীন দলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের শাহী মসজিদ ও বউবাজার এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি ও সশস্ত্র হামলাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতা মাছুম বিল্লাহর ভাষ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতা শেখ সিফাত ও তাঁর অনুসারীদের আসামি করা হয়। এরই জের ধরে সালেহনগরে বুলবুলের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দেড় শতাধিক বাসিন্দা দেশীয় অস্ত্র হাতে বিক্ষোভে নামেন এবং অভিযুক্ত শেখ সিফাতের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে হামলা চালান। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতের পরিবার এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।