খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা নগরীর আলোচিত স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নিরজানা (১৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। আদালতে দেওয়া মায়ের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অনুযায়ী, নিরজানা তার নিজের বাবার আঘাতেই মারা গেছে। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত নিরজানা খুলনা নগরীর একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জবানবন্দিতে মা দাবি করেছেন, ঘটনার দিন নিরজানার বাবা আলিম হোসেন ওরফে আকাশ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তিনি নিরজানার মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিরজানা অচেতন হয়ে পড়ে এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিরজানার মরদেহ বস্তাবন্দি করে খুলনার নিরালা এলাকার একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়। এই ঘটনায় মরদেহ গোপনে সরাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে নিরজানার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
নেশাগ্রস্ত বাবার আঘাতেই অচেতন হয়ে পড়ে নিরজানা। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিরালা এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।" — আদালতে মায়ের জবানবন্দি
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত বাবা আলিম হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত রহস্য উন্মোচনে দ্রুতই একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হবে। একটি পরিবারের ভেতরের চরম সহিংসতা কীভাবে একটি কিশোরীর জীবন কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা আবারও সেই নির্মম প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে।