সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা টোলপ্লাজা-সংলগ্ন আষাড়িয়ারচর এলাকায় এক প্রবাসী পরিবারের গাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের এ এলাকায় অস্ত্রের মুখে ওই পরিবারের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পাসপোর্টগুলো লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সপরিবার জাপানে ফেরার ফ্লাইট থাকার কথা থাকলেও এই লুণ্ঠনের ঘটনায় প্রবাসীর কর্মস্থলে ফেরা এবং সন্তানদের পড়াশোনা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাপান প্রবাসী মাহমুদুল হাসান তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ফেনীর নিজ বাড়ি থেকে একটি ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সপরিবার তাঁদের জাপানের উদ্দেশে ফ্লাইট ধরার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল বুধবার গভীর রাতে গাড়িটি সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা টোলপ্লাজার কাছাকাছি পৌঁছালে একদল ডাকাত তাঁদের গতিরোধ করে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মহাসড়কের ওপর হঠাৎ করেই কয়েকজন ব্যক্তি লেসারলাইট ব্যবহার করে তাঁদের গাড়ির গতি থামিয়ে দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা লাঠিসোটা ও অস্ত্র নিয়ে গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর চালকসহ পরিবারের সব সদস্যকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সঙ্গে থাকা সর্বস্ব লুটে নিতে শুরু করে।
ডাকাত দলের সদস্যরা মাহমুদুল হাসানের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি দামি আইফোন, নগদ অর্থ এবং ব্যাগে থাকা পরিবারের সব সদস্যের পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ায় আজ নির্ধারিত ফ্লাইটে তাঁদের পক্ষে আর জাপানে ফেরা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান জানান, জাপানে তাঁর কর্মস্থল ও সন্তানদের পড়াশোনা সংক্রান্ত জরুরি কারণে দ্রুতই তাঁদের ফিরে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মেঘনা সেতু পার হওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাত দলের কবলে পড়েন তাঁরা। ডাকাতেরা তাঁদের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় সব নথিপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয়। এতে তাঁদের জাপান যাত্রা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে লুট হওয়া মালামাল ও পাসপোর্ট উদ্ধারে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। লুট হওয়া পাসপোর্ট ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।