বিশেষ প্রতিনিধি: দেশের পোশাক ও ডাইং খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং চলমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছে শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলো। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং কারখানা চালু রাখতে বকেয়া ও চলতি বিল ১২ মাসের সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগসহ মোট ৬ দফা যৌথ দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও ডাইং শিল্প মালিক সংগঠনসমূহ।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্প মালিকরা জানান, বর্তমানে প্রয়োজনীয় চাপ অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়া এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে, যা এ খাতের ওপর মারাত্মক আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
শিল্প বাঁচাতে বিকেএমইএ ও ডাইং শিল্প মালিকদের উত্থাপিত মূল ৬টি দাবি নিচে তুলে ধরা হলো:
১২ মাসের সহজ কিস্তিতে বিল পরিশোধ: বকেয়া ও চলতি বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল কোনোরূপ সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া আগামী ১২ মাসের সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ প্রদান করা।
নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত সংযোগ: পোশাক ও ডাইং শিল্পের উৎপাদন সচল রাখতে চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চাপের গ্যাস এবং নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা: চলমান আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিল পরিশোধে বিলম্ব হলেও কোনো কারখানার গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া।
জ্বালানি মূল্য পুনর্নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা এবং শিল্পের ওপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা।
ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাসের নিশ্চয়তা: ডাইং ও টেক্সটাইল খাতকে টিকিয়ে রাখতে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাসের সঠিক প্রেশার নিশ্চিত করা এবং সৌর বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নীতিগত ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো।
যৌথ টাস্কফোর্স গঠন: জ্বালানি সংকট সমাধান ও শিল্পকারখানার সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা, পিডিবি এবং শিল্প মালিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ 'টাস্কফোর্স' গঠন করা।
মালিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিল্প খাতের এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না হলে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।