বিশেষ প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী সীরাতুন্নবী (সা.) কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি আরো বলেন, বিভেদ ও প্রতিহিংসা ভুলে সাম্য ও সম্প্রীতির সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না। অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর ফিরে না আসে, সেজন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে। মহানবীর (সা.) আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা। তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির মুক্তির দূত।
বাংলাদেশকে আবহমানকালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহানবী (সা.) বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের সমন্বয়ে যে সমাজব্যবস্থা, অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, জাতীয় জীবনে তা অনুসরণ করা প্রয়োজন। মহানবীর (সা.) আদর্শের ভিত্তিতে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করবেন।
ইসলামিক মূল্যবোধ চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেন, চার বিভাগে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং ২০০১ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেন। বর্তমান সরকারও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের সম্মানী ভাতা চালু করেছে এবং আশা প্রকাশ করা যায়, ২০৩০ সালের আগেই দেশের সব উপাসনালয় এই ভাতার আওতায় আসবে।
সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও নির্যাতন দূর করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে আলেম-ওলামাদের প্রতি অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, এমপি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকীসহ শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ও ব্যক্তিবর্গ।