সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা ১৯ দিন পর ফের প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে। মাজারের ৭০০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো এমন প্রকাশ্য গণনার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে এই টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনায় অংশ নিচ্ছেন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজার এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ডেগে জমা হওয়া টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছিল। সে সময় ৪ ঘণ্টার গণনায় মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
মাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও পুরোনো দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।
তবে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই ২১ জুন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। বদলির আদেশ আসার পরদিনই (২২ জুন) তিনি সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্সগুলো খুলে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে ২৬ জুন মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে একটি ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়, যাদের তত্ত্বাবধানে আজ দ্বিতীয় দফায় এই গণনা চলছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মাজার প্রাঙ্গণে পুলিশি পাহাড়ায় গণনার কাজ চলছে। আজকের গণনা শেষে মোট কত টাকা পাওয়া গেল, তা মাজার কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।