নিজস্ব প্রতিবেদক: পৈতৃক সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখলের অপরাধে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকার গওহারডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি রুহুল আমিনের ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) গোপালগঞ্জের জেলা পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শাহনাজ নাসরীন খান সাবেক এই খতিবের আপিল আবেদন খারিজ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজাই বহাল রাখেন। একই সঙ্গে তাঁকে অবিলম্বে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি মুফতি রুহুল আমিনের ভাবি ফাতেমা বেগম (তাঁর প্রয়াত ভাই হাফেজ মাওলানা ওমরের স্ত্রী) টুঙ্গিপাড়া থানা আমলী আদালতে একটি নালিশী আবেদন করেন। আবেদনে ২০২৩ সালের ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার দমন আইনে অভিযোগ করা হয় যে, টুঙ্গিপাড়ার শ্রীরামকান্দি মৌজায় তাঁর স্বামীর ১৭ শতাংশ জমি রুহুল আমিন জোরপূর্বক দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন এবং বাধা দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মাদ আলী তালহা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মুফতি রুহুল আমিনকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামি ও বাদীপক্ষ উভয়েই আপিল করলে বিচারক দুটি আবেদনই খারিজ করে পূর্বের সাজা বহাল রাখেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাদীর জামাতা মুফতি ইসমাইল জানান, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আরও দুটি উচ্ছেদ মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, রুহুল আমিনের ভাগ্নে মোর্তাজা হাসান দাবি করেন, নালিশী জমিতে তাঁদের অংশ থাকলেও পুরো সম্পত্তি জোর করে দখলে রেখেছেন তাঁর মামা।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় মসজিদের খতিব পদে নিয়োগ পাওয়া মুফতি রুহুল আমিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররমে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।