কলকাতা প্রতিনিধি: ভারতের মাটিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পা রাখার আগেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বার্তা দিল বেইজিং। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে চীন।
জিনপিংয়ের ভারত সফরের প্রাক্কালে চীনা রাষ্ট্রদূতের এই বার্তাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে শিগগিরই একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
কাজান ও তিয়ানজিনে পূর্ববর্তী বৈঠকের পর এটি হবে দুই নেতার টানা তৃতীয় সাক্ষাৎ। রাষ্ট্রদূতের বার্তা অনুযায়ী, দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের কৌশলগত নির্দেশনায় ভারত ও চীন পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নে একযোগে কাজ করবে। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পরিচালনা, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মতপার্থক্যগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বার্তায়। পাশাপাশি উভয় দেশকে একে অপরের ভালো প্রতিবেশী, বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগী এবং পারস্পরিক সাফল্যে সহায়ক অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর জিনপিংয়ের এই ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এরপর গালওয়ান সংঘর্ষ, সীমান্ত উত্তেজনা এবং ডোকলাম ও অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ লক্ষ করা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-জিনপিং বৈঠক আঞ্চলিক রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও, বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে জিনপিংয়ের এই দিল্লি সফর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। এমন প্রেক্ষাপটে চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফর এবং মোদি-জিনপিং বৈঠক ঢাকার জন্য কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ভারত ও চীনের সম্পর্ক যদি আরও স্থিতিশীল ও সহযোগিতামূলক হয়ে ওঠে, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক কূটনৈতিক সমীকরণেও।
একই সঙ্গে দিল্লি-বেইজিং সম্পর্কের এই পরিবর্তনের দিকে সতর্ক নজর রাখবে যুক্তরাষ্ট্রও। কেননা একদিকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার, অন্যদিকে চীন ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিবেশী ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি। ফলে মোদি-জিনপিং বৈঠকে সীমান্ত প্রসঙ্গের পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে কী বার্তা উঠে আসে, সেদিকেই এখন দৃষ্টি রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।