আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং মার্কিন অবরোধ ঘিরে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে এল বড় ধরনের খবর। সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে আগামী সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানের রাজধানী মাসকাটে বৈঠকে বসছেন আরব বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ইরান ও ওমানের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত একটি নতুন ও নিরাপদ নৌপথের চুক্তিতে সই করবেন তারা।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট সহজভাবে তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তিনি জানান, সোমবারের এই বৈঠকে নতুন নেভিগেশন পথ নিয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকে (আইএমও) অবহিত করা হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্প্রতি যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছিল, সেসব দেশের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সফল হতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরানের অর্থনীতি শুধু সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়, তাই অবরোধ দিয়ে দেশটিকে থামানো সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সমঝোতার একটি পথও খোলা রেখেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট-যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অন্যায্য অবরোধ ও সামরিক হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে, তাহলে ইরানও তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট আটটি দেশ সোমবারের এই বৈঠকে অংশ নেবে, যেখানে মূলত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কীভাবে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ও অবরোধ যত দিন বলবৎ থাকবে, তত দিন কোনো জাহাজের নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন হবে।
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ইঙ্গিত দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির এই নতুন নৌপথের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি ইরানের হাতেই থাকবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী সোমবার মাসকাটে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে প্রকৃতপক্ষে কী সিদ্ধান্ত আসে কারণ ওমান সরকার এখনো এই বৈঠকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।