বিশেষ প্রতিবেদক: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। প্রকাশ হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। ফল হাতে পাওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে কেউ বন্ধুদের জড়িয়ে ধরেছে, কেউ ছবি তুলেছে, আবার কেউ ড্রাম বাজিয়ে ও স্লোগান দিয়ে উদ্যাপন করেছে সাফল্য। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর চোখেমুখে ছিল স্বস্তি আর আনন্দের ঝিলিক।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ফল প্রকাশের পর পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই উৎসবের আবহ। একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছিল শিক্ষার্থীরা। কেউ ড্রাম বাজাচ্ছিল, কেউ আবার নরওয়ের ফুটবল সমর্থকদের আদলে সমস্বরে উদ্যাপন করছিল। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার আনন্দে অনেকেই বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলছিল এবং স্মরণীয় করে রাখছিল দিনটি।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় অনেকেই ফল নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিল। তবে ফল প্রকাশের পর সেই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। বরং প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল পাওয়ায় আনন্দিত তারা।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সামিউজ্জামান বলেন, এই ফলের জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো ফল পেয়েছি। এই ফলে আমি যেমন খুশি, আমার পরিবারও তেমনি আনন্দিত। আশা করি, এই অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।
একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী অহনা সাহা বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন অনেক কঠিন ছিল। তাই এত ভালো ফল হবে, সেটা আশা করিনি। ফল পেয়ে আমি অনেক খুশি। এখন সামনে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।
শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিভাবকদের উচ্ছ্বাসও। ফল প্রকাশের পর অনেক অভিভাবককে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আনন্দ করতে দেখা যায়। কেউ সন্তানের সাফল্যে আবেগাপ্লুত, কেউ আবার ভবিষ্যতের জন্য তাঁদের উৎসাহ দিচ্ছেন।
অভিভাবক ফারহানা আক্তার বলেন, আমার ছেলে আদিত হোসেন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ফলে আমরা খুবই আনন্দিত। এই সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রম যেমন রয়েছে, তেমনি স্কুলের শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ছিল একই ধরনের আনন্দঘন পরিবেশ। বেলা একটার দিকে ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়, ছবি তোলে এবং নিজেদের সাফল্য উদ্যাপন করে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী পূর্ণিমা রায় বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন অনেক কঠিন ছিল। বিশেষ করে উচ্চতর গণিতের প্রশ্ন নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। সব মিলিয়ে আমি যে ফল আশা করেছিলাম, তার চেয়েও ভালো ফল পেয়েছি। এতে আমি খুবই আনন্দিত।
আরেক শিক্ষার্থী তাইয়েবা তাসনিম বলেন, আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতা ও উৎসাহের কারণেই আমরা ভালো ফল করতে পেরেছি। এই ফলকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করব। জীবনে যে স্বপ্ন দেখি, সেই স্বপ্নের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।
ফল প্রকাশের দিন রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্র ছিল প্রায় একই। দীর্ঘদিনের পড়াশোনা, প্রস্তুতি ও অপেক্ষার পর ফল হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও সাফল্যের হাসি। তাঁদের আনন্দে শামিল হন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্বজনেরাও।
এসএসসির ফলাফল যেন শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়-শিক্ষার্থীদের কাছে এটি ছিল দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং নতুন স্বপ্নের পথে যাত্রার শুরু। কাঙ্ক্ষিত ফলের আনন্দ সঙ্গে নিয়ে এখন উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে চায় তারা।