চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গত জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেই দেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হুজুরের (আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী) নির্দেশনা ও দোয়ায় আমরা দেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছি। এজন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমাদের সমস্যা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।
আজ রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দেশের ৬৪ জন শীর্ষ আলেমের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে এবং নিজেদের স্বার্থে দেশের সম্পদের বিভিন্ন খনি বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছে। এর ফলেই বর্তমানে দেশের মানুষকে নানা সমস্যার খেসারত দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকা একটি পক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। হুজুরের দোয়ায় এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত আলেমরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন। আমরা সব বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। ইনশাআল্লাহ, সব সংকট কেটে যাবে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং সিএন্ডবি মাঠে নির্মিত অস্থায়ী হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট ফয়সাল মাহমুদ ফয়জীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এরপর বুলেটপ্রুফ বাসযোগে বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পথে পাইন্দং থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে একনজর দেখতে জড়ো হন, যা পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে অবস্থান ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ শেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বন্যা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।