বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: দিনদুপুরে ব্যস্ত সড়ক। হেটে যাচ্ছে এক স্কুলছাত্রী। পেছন থেকে হঠাৎ ধেয়ে এসে তাকে সজোরে লাথি মারল এক কিশোর। আঘাতের চোটে থমকে গেল ছাত্রীটি, আর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আরেক কিশোর অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে পুরো ঘটনাটি তুলে নিল মুঠোফোনে। উদ্দেশ্য-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক -এ লাইক আর ভিউ কুড়ানো।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বন্দর উপজেলার একাধিক এলাকা এখন কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের দৌরাত্ম্যে অবরুদ্ধ।

স্থানীয় সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্দর উপজেলার সিরাজুদ্দৌলা ক্লাবের মোড়, বন্দর গালর্স স্কুল সংলগ্ন এলাকা, খেয়াঘাট ও ধামগড় এলাকায় বেশ কয়েকটি সক্রিয় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির প্রশ্রয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পড়াশোনা ছেড়ে তারা দিনরাত আড্ডা দেয় গলির মোড়ে, জড়িয়ে পড়ছে ইভটিজিং, মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে। গ্যাংটির সদস্যরা নিজেদের প্রভাব জানান দিতে এবং টিকটকে অনুসারী বাড়াতে প্রায়ই সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর এভাবে চড়াও হয়। এর আগেও একাধিক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটলেও বখাটেদের ভয়ে কোনো পরিবার মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়েরা স্কুলে যাবে কীভাবে? প্রকাশ্য দিবালোকে যদি একটা মেয়েকে লাথি মেরে টিকটক ভিডিও বানানো হয়, তবে আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা কোথায়? এই বখাটেদের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো বড় শক্তির হাত আছে, তা না হলে এরা পুলিশকেও তোয়াক্কা করত না।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে না দিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে ভিডিওতে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, এমন ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে আসবে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। ভিডিওটির সত্যতা, ঘটনার সময়, স্থান এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।