ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেষ বাঁশি বাজল যোগ করা সময়ের ১২তম মিনিটে। আর তাতেই নিশ্চিত হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। মাঠজুড়ে তখনো চলছে উল্লাস, আর তার মাঝেই অঝোরে কাঁদছেন লিওনেল মেসি। সতীর্থদের একের পর এক আলিঙ্গন যেন তাঁর চোখের জল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শকের দিকে তাকিয়েও মেসির চোখ বেয়ে নামছিল আনন্দের অশ্রু। কারণ, বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার শেষ সুযোগটি যে হাতছাড়া হতে দেননি তিনি!
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্তও দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। পরাজয় যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, ঠিক তখনই শুরু হলো আর্জেন্টিনার সেই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন, যার রূপকার স্বয়ং অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
৭৯ মিনিট (আশার আলো): ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মেসির চমৎকার এক অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।
৮৩ মিনিট (সমতা ও লাইফলাইন): ঠিক ৪ মিনিট পর, ৮৩ মিনিটে ম্যাজিকাল এক ফিনিশিংয়ে ম্যাচে সমতা (২-২) ফেরান মেসি নিজেই। এই গোলেই মূলত নতুন 'লাইফলাইন' পায় আর্জেন্টিনা।
যোগ করা সময় (মহানাটকীয় জয়): নির্ধারিত সময় শেষের পর যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিট) আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লাওতারো মার্তিনেজের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান এনজো ফার্নান্দেজ।
৩-২ গোলের এই অবিশ্বাস্য জয়ে রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। আর সেই সাথে বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির শেষ অধ্যায়ের স্বপ্নটাও বেঁচে থাকল রাজকীয়ভাবে