সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের পর ঘাতক বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। গৃহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা এবং সেখান থেকে সৃষ্ট বাগবিতণ্ডার জেরে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক বাবুল মিয়া রায়নগরের রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়া কলোনির মৃত নূর মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি এবং পাশাপাশি কসাইয়ের কাজও করতেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে অভিযানের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন-বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা (১৮)। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য এবং স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। তার চার সন্তানের মধ্যে দুজন লন্ডনে ও দুজন আমেরিকায় থাকেন।
পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বাবুল ওই বাসায় আগে থেকে পরিচিত ছিলেন এবং গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গেলে তাহমিনা তাকে ভেতরে ঢোকায়। পরবর্তীতে একটি কক্ষে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিলে দুজনের মধ্যে কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে।
চিৎকার শুনে প্রথমে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করে বাবুল। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। তিনটি হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে সকালে মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং প্রধান দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীরা প্রথমে বিষয়টি টের পাননি। পরে বারান্দায় রক্তের দাগ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ জানায়, ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাটির সঙ্গে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার চুরি বা জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ জড়িত কি না, তাও সিআইডি ও পিবিআই তদন্ত করে দেখছে। আটক বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।