নিজস্ব প্রতিবেদক: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে থানায় এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছেন সংবাদকর্মীরা; অভিযুক্ত ওসির অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা মাওলানা সুলতান আহমেদ ও তাঁর পরিবারকে জিম্মি করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপপ্রচারে নামে। চিহ্নিত এক সন্ত্রাসী চক্রের দুই নারী ও তাদের মা আত্মগোপনে গিয়ে মোহাম্মদপুরের একটি অপরাধী গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে। অভিযোগ রয়েছে, শ্যামপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাওলানা সুলতান আহমেদের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে কিছু অনলাইনে মিথ্যা ও সাজানো খবর প্রকাশ করে পরিবারটিকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনার নেপথ্য জানতে শ্যামপুর থানায় গেলে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বাংলাভিশন টিভি ও দৈনিক বর্তমান সিনিয়র রির্পোটার মো: আল আমিন (এমএ)-এর ওপর চড়াও হন ওসি নজরুল। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এর আগে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গেও তিনি অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। থানায় কোনো সাংবাদিক লাঞ্ছিত হননি। তবে সাংবাদিক আল আমিন তথ্য সংগ্রহ ও অনুমিত ছাড়া ছবি তোলার কারণে আমি তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে নিয়েছিলাম।
বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, অন্যায় সুবিধা ও ঘুষের লোভে অন্ধ হয়ে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অভিযুক্ত ওসিকে অবিলম্বে পদ থেকে সরিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অপরাধে জড়িত কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, প্রমাণ মিললে জিরো টলারেন্স নীতিতে বরখাস্তসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা দায়েরকারী ও ভুয়া তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে অভিযুক্ত ওসিকে প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।