আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইব্রাহিম আল-মাদানি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি মসজিদুল হারামে ফজরের আজান দিয়েছিলেন। ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম এই মসজিদে সেটিই ছিল তার জীবনের শেষ আজান।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শায়খ ইব্রাহিম আল-মাদানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে 'ইনসাইড দ্য হারামাইন'। প্রকাশ করা হয়েছে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে গ্র্যান্ড মসজিদে তার আজান দেওয়ার একটি বিশেষ ভিডিও দৃশ্যও।
সোমবার আসরের নামাজের পর মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে শায়খ ইব্রাহিম আল-মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তাকে ঐতিহাসিক আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৭৬ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন শায়খ ইব্রাহিম আল-মাদানি। একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইব্রাহিম ছোটবেলা থেকেই তার নানার কাছ থেকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন, যিনি নিজে কোরআনের হাফেজ ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোরআন সম্পর্কিত বিষয়াদিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই মুয়াজ্জিন হিসেবে তার পথচলা শুরু হয় মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে। কলেজে পড়াশোনাকালীন সময় পর্যন্ত মদিনার তিন প্রতিবেশীর সঙ্গে পালাক্রমে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে মদিনার বাইরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য আজান দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
১৪২৮ হিজরিতে (২০০৭-০৮ খ্রিষ্টাব্দ) তাকে মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে ফের আজান দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর তিনি মক্কার পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদে আজান দেওয়ার বিরল সুযোগ পান। পরবর্তীতে ১৪৩৯ হিজরিতে (২০১৭-১৮ খ্রিষ্টাব্দ) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মদিনায় বেড়ে ওঠার সুবাদে শায়খ ইব্রাহিম আজানের ক্ষেত্রে মদিনার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও নিজস্ব সুরের ধারায় গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তবে বাবার সঙ্গে মক্কায় যাতায়াতের সুবাদে মক্কার ঐতিহ্যবাহী আজানের সুরের সঙ্গেও তার নিবিড় পরিচয় ঘটে। ওই সময়েই তার পরিচয় হয়েছিল গ্র্যান্ড মসজিদের সাবেক প্রখ্যাত মুয়াজ্জিন শেখ আবদুল লতিফ মুল্লার সঙ্গে, যিনি ছিলেন তার নানার সুহৃদ।