বান্দরবান প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ আর সীমান্ত পেরিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। যার মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটার কারণে শুধু কক্সবাজারেই মারা গেছেন ২৩ জন-যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। এছাড়া চট্টগ্রামে ১১, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে দেশের ১০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে, যার ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ। পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা। বেড়িবাঁধ ভেঙে ও বেইলি ব্রিজ ধ্বংস হয়ে সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। জেলাটিতে বিদ্যুৎ, মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক না থাকায় এক প্রকার অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন লাখো মানুষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বিভাগের চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য খোলা ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন সাড়ে ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় কোস্টগার্ড ও বিজিবি’র পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সরকারের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং সাড়ে ৫ কোটি টাকারও বেশি জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্র্যাক ও বিএনকেএস-এর মতো এনজিওগুলোও দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।